আজ সকালে ঈদের নামায পড়ে বাসায় এসে মোবাইল ব্রাউজারে খবর পেলাম, কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় নাকি বোমা হামলা হয়েছে। আমি সাধারণত টিভি দেখি না, কিন্তু তারপরও টিভি ছেড়ে দিলাম পরিস্থিতি দেখার জন্য। সেখানে দেখলাম, একাত্তর টিভি তার নিউজ স্ক্রলে বারবার প্রচার করছে শোলাকিয়ার ময়দানে নাকি বোমা হামলা হয়েছে..

কিন্তু একটু পরেই একাত্তর টিভিতে যখন শোলাকিয়ার মাঠের নামাযের লাইভ সম্প্রচার শুরু হলো, সেখানে কোন বোমা হামলারই আভাস পাওয়া গেল না। মানুষ ধীরেসুস্থে নামায পড়ছে, নামায শেষে ইমাম খুতবা দিচ্ছে। মাঠের মধ্যে উপস্থিত পুলিশ থেকে শুরু করে মুসল্লী, কারো মধ্যে কোনপ্রকার ভয়ভীতির চিহ্নও ছিল না।

মানুষের এই ধীরেসুস্থে নামায পড়ার কারণ জানা গেল বিবিসির খবরে। কিশোরগঞ্জের স্থানীয় একজন সাংবাদিক সাইফুল হক দুলু বিবিসি বাংলাকে বলেছে, “মাঠের মাইকে যেহেতু তখন একজন হুজুর কোরানের বয়ান পড়ছিলেন, তাই প্রচণ্ড আওয়াজের কারণে মাঠের ভেতরে বাইরের এই ঘটনার খবর কোনোভাবে পৌঁছে নাই।নামাজের মধ্যে যদি আতঙ্ক ছড়ায়ে যেত, দৌড়াদৌড়ি শুরু হলে তখন হয়ত কয়েক হাজার মানুষ পদপিষ্ট হয়ে হতাহত হতে পারত।’’ (http://goo.gl/EtxZ7N)

এতে কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট হয়-

১) একাত্তর টিভি আগেভাগেই বোমা হামলার খবর বারবার টেক্সট আকারে প্রচার করছিল কেন? এতে করে কী স্পষ্ট হয় না, গুলশান হামলা থেকে শুরু করে শোলাকিয়া প্রত্যেকটি জায়গায় এই মিডিয়াগুলো ষড়যন্ত্র করছে? যার ফলে তারা আগেভাগেই ঘটনার পরিণতি সম্পর্কে ধারণা করে সেই খবর প্রচার করছিল? কিন্তু যেহেতু হামলাকারীরা ঈদগাহ মাঠের এক কিলোমিটার দূরেই পুলিশের দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হয়, সেহেতু প্ল্যান অনুযায়ী কাজ হতে পারেনি। একাত্তর টিভির বোমা হামলার স্ক্রলও বেশিক্ষণ চলতে পারেনি।

২) পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াতের উচ্চ আওয়াজের কারণে আজকে লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণ বেঁচে গিয়েছে । যদি বোমার শব্দ মাঠে পৌঁছত আর জনগণ আতঙ্কিত হয়ে মাঠে দৌড়াদৌড়ি করতো, তাহলেও প্রচুর প্রাণহানি হতো এবং তা নিয়ে মিডিয়াতে আরেকটি ইস্যু তৈরী হতো। সেক্ষেত্রেও সন্ত্রাসীরা তাদের লক্ষ্যউদ্দেশ্যে সফল হতে পারতো। কিন্তু তার কিছুই হলো না কুরআন শরীফ তিলাওয়াতের কারণে।

৩) অত্যন্ত সফলতার সাথে ঈদগাহ মাঠের এক কিমি আগেই হামলা ঠেকিয়ে দেয়ার পরও ভারতীয় মিডিয়াগুলো অতিরঞ্জিত খবর প্রকাশ করে বাংলাদেশেকে ফের বেকায়দায় ফেলতে চাচ্ছে। ভারত এমনভাবে বিশ্ব মিডিয়াতে মিথ্যা প্রচার শুরু করছে, যেন মূল ঈদগাহ মাঠেই খুব বড় কোন হামলা হয়ে গিয়েছে।

কারণ এই ভারত আমাদের শত্রু, এই ভারতই চায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশের পানি ঘোলা করে অশান্তি সৃষ্টি করতে। বাংলাদেশে আইএস আছে এই মিথ্যাকে তারা প্রতিষ্ঠিত করতে চায় দেশটাকে ধ্বংস করার জন্য। এই মুশরিকদের দেশটাকে আমাদের প্রতিটি পদে পদে বয়কট করা উচিত, ভারতীয় পণ্য আমাদের বর্জন করা উচিত।

Post a Comment

 
Top